Share on WhatsApp Share on Telegram

শিক্ষার বিভিন্ন স্তরে বৃত্তিমূলক নির্দেশনার কার্যাবলী | Functions of Vocational Guidance at Different Stages of Education

বৃত্তিমূলক নির্দেশনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনের উপযোগী করে তোলার সম্ভব হয়। শিক্ষার বিভিন্ন স্তরে বৃত্তিমূলক নির্দেশনার কার্যাবলী (Functions of Vocational Guidance at Different Stages of Education) তাই বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার বিভিন্ন স্তরে বৃত্তিমূলক নির্দেশনার কার্যাবলী | Functions of Vocational Guidance at Different Stages of Education

বৃত্তিমূলক নির্দেশনা হল শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে বৃত্তি গ্রহণের উপযোগী করে তোলা। অর্থাৎ বৃত্তিমূলক নির্দেশনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনের উপযোগী করে তোলা বা ভবিষ্যতে কর্মমুখী করে তোলা যায়।

মেয়ারস (Mayers) বলেছেন – বৃত্তিমূলক নির্দেশনা হল কোনো ব্যক্তিকে তার নিজের বৃত্তি বা পেশা সংক্রান্ত নির্দিষ্ট বিষয়গুলি পরিচালিত করার জন্য সহায়তা মূলক একটি বিশেষ প্রক্রিয়া। (“Vocational Guidance is the process of assisting the individual to do for himself certain definite things pertaining to his vocation.”)

শিক্ষার বিভিন্ন স্তরে কার্যাবলী বৃত্তিমূলক নির্দেশনার কার্যাবলী (Functions of Vocational Guidance at Different Stages of Education) যে সমস্ত দিক থেকে পরিলক্ষিত হয়, সেগুলি হল নিম্নলিখিত –

শিক্ষার প্রাথমিক স্তর | Primary Level of Education

শিক্ষার প্রাথমিক স্তরে শিশু যেহেতু প্রথম শিক্ষার মধ্যে প্রবেশ করে, তাই এই স্তরে নির্দেশনার গভীরে প্রবেশ করা যায় না। তবে শিক্ষার প্রাথমিক স্তরে বৃত্তিমূলক নির্দেশনার কাজগুলি হল –

i) শিশুর আগ্রহ চিহ্নিত করা (Career Preparation – Course Selection Guidance)। অর্থাৎ এই স্তরে বৃত্তিমূলক নির্দেশনার মাধ্যমে শিশুর আগ্রহ এবং ক্ষমতা চিহ্নিতকরণ করা।

ii) সচেতনতা গঠন করা (Career Awareness – Career Options After School)। এই স্তরে শিক্ষার্থীদের বৃত্তিমূলক বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে বা বৃত্তি ও পেশা সম্পর্কে অবগত বা সচেতন করা।

iii) দলগত কাজে উৎসাহদান (Teamwork Skills – Soft Skills Development)। শিক্ষার প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার্থীদের দলগত কাজে উৎসাহদানের মাধ্যমে বৃত্তিমূলক শিক্ষার উদ্দেশ্য সাধন করা সম্ভব।

iv) প্রেষণা সঞ্চার করা (Motivation Building – Student Confidence Development)। শিক্ষার প্রাথমিক স্তরে এই নির্দেশনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যথাযথভাবে প্রেষণার সঞ্চার করা সম্ভবপর হয়।

শিক্ষার মাধ্যমিক স্তর | Secondary Level of Education

শিক্ষার মাধ্যমিক স্তর শিক্ষার্থীদের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময় থেকে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গঠনের উপযোগী করে গড়ে তোলা সম্ভব হয়। তাই শিক্ষার মাধ্যমিক স্তরে বৃত্তিমূলক নির্দেশনার কার্যাবলী গুলি হল –

i) প্রারম্ভিক প্রস্তুতি। অর্থাৎ শিক্ষার মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার্থীদের বৃত্তিমূলক নির্দেশনার মাধ্যমে বৃত্তি ও পেশার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণে উৎসাহিত করে। ফলে শিক্ষার্থীরা তাদের আগ্রহ ও পছন্দ অনুযায়ী বিভিন্ন কোর্স নির্বাচন করে, যেগুলি তাকে ভবিষ্যৎ জীবনে বৃত্তি নির্বাচনে উপযোগী করে তুলবে।

ii) কেরিয়ার বা বৃত্তি সম্পর্কে সচেতনতা বোধ গঠন করা (Career Preparation – Course Selection Guidance)। শিক্ষার মাধ্যমিক স্তরে সহজে ক্যারিয়ার বা ব্যক্তি সম্পর্কে সচেতনতা গঠন করা বৃত্তিমূলক নির্দেশনার কাজ।

iii) দায়িত্ব গ্রহণের মানসিকতা সৃষ্টি (Decision Making Skills – Career Decision Making)। অর্থাৎ শিক্ষার মাধ্যমিক স্তরে সকল শিক্ষার্থী ভবিষ্যতের যে পেশা বা ভিত্তিতে নির্বাচনে সুযোগ পাবে বা যুক্ত হতে পারবে তার জন্য তার দায়িত্ব গ্রহণের মানসিকতা গঠন করা বৃত্তিমূলক নির্দেশনার কাজ।

iv) ব্যক্তিগত উন্নয়ন সাধন করা (Personality Development – Adolescent Development Skills)। শিক্ষার মাধ্যমিক স্তরে বৃত্তিমূলক নির্দেশনার মাধ্যমে আত্মবিশ্বাস, সহযোগিতা, অভিযোজন প্রভৃতি ব্যক্তিগত উন্নয়ন সাধন করা সম্ভব হয়। কারণ মাধ্যমিক স্তরে কৈশোরকালীন অবস্থায় শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত উন্নয়ন বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

v) দক্ষতার বিকাশ সাধন (Skill Development – Vocational Skills Training)। অর্থাৎ মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বৃত্তি সম্পর্কে সুষ্ঠ মানসিকতা গঠন করা এবং উপযুক্ত বৃত্তিতে যাতে অংশগ্রহণ করতে পারে, সে বিষয়ে তাকে দক্ষ ও উপযুক্ত করে তোলা।

উচ্চশিক্ষার স্তর | Higher Education Level

উচ্চ শিক্ষার স্তরে বৃত্তিমূলক নির্দেশনা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এখান থেকে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনের পথ চলা শুরু হয়। অর্থাৎ উচ্চ শিক্ষার পরবর্তীকালে যেহেতু শিক্ষার্থীরা কর্মজগতে প্রবেশ করে তাই শিক্ষার উচ্চ শিক্ষা স্তরে বৃত্তিমূলক নির্দেশনার কাজ গুলি হল –

i) বৃত্তি অনুসন্ধানে সাহায্য করা (Career Exploration – Job Oriented Career Guidance)। অর্থাৎ এই স্তরে বৃত্তিমূলক নির্দেশনা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎবৃত্তি বা পেশা সম্পর্কে চূড়ান্ত দিশা বা নির্দেশনা দিয়ে থাকে। তাই উচ্চশিক্ষাস্তরে বৃত্তিমূলক নির্দেশনার প্রধান কাজ হল শিক্ষার্থীদের উপযুক্ত পেশার সন্ধান দেওয়া।

ii) দক্ষতার বিকাশ সাধন করা (Professional Skill Development – Job Ready Skills)। অর্থাৎ এই স্তরে শিক্ষার্থীদের পছন্দমত বৃত্তি বা কর্মে প্রবেশের পূর্বে প্রয়োজনীয় দক্ষতার বিকাশ সাধন করা। ফলে শিক্ষার্থীরা সহজে বা কোনো কর্মমূলক কোর্স করার শেষে বৃত্তিতে অংশগ্রহণ করতে পারে।

iii) ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা (Workplace Challenges – Career Risk Awareness)। এই স্তরে বৃত্তিমূলক নির্দেশনার মাধ্যমে কর্মজগতে প্রবেশের পূর্বে যে ঝুঁকি রয়েছে বা অসুবিধা গুলি রয়েছে এবং সেগুলি কিভাবে মানিয়ে নেবে সে সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতনতা করা। এর ফলে শিক্ষার্থীরা কর্মজগতের বা পেশাগত জীবনের সকল পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে।

iv) মানসিক চাপের মোকাবিলা করা (Stress Management – Workplace Mental Health)। বিভিন্ন কাজ বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। কোনো কোনো কাজ নির্দিষ্ট টার্গেট মূলক হয়ে থাকে। তাছাড়া কর্মজগতের বিভিন্ন মানসিক চাপ থাকে। যেমন – নির্দিষ্ট সময়ে কোনো কাজ সম্পন্ন করা প্রভৃতি। আর কর্মজগতের এই সমস্ত মানসিক চাপের মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে বৃত্তিমূলক নির্দেশনা বিশেষভাবে সাহায্য করে থাকে।

v) উপযুক্ত পরিকল্পনা গঠনের সাহায্য করা (Career Planning – Job Application & Interview Preparation)। উচ্চ শিক্ষার স্তর যেহেতু শিক্ষার্থীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তাই বৃত্তিমূলক নির্দেশনার মাধ্যমে কর্ম জগতে প্রবেশের উপযুক্ত পরিকল্পনা করা সম্ভব হয়। অর্থাৎ জব অ্যাপ্লিকেশন করা, ইন্টারভিউ -এর জন্য প্রস্তুতি নেওয়া প্রভৃতি ভিত্তিমূলক নির্দেশনার মাধ্যমে সম্ভবপর হয়।

উপসংহার | Summary and Findings

পরিশেষে বলা যায়, বৃত্তিমূলক নির্দেশনা ব্যক্তিকে উপযুক্ত বৃত্তি নির্বাচন এবং বৃত্তির মধ্যে অংশগ্রহণে সাহায্য করে। তাছাড়া বৃত্তিমূলক নির্দেশনা বৃত্তির সুবিধা অসুবিধা বা ঝুঁকি আছে কিনা সে বিষয়ে ব্যক্তিকে সচেতন করে। তাই শিক্ষার বিভিন্ন স্তরে বৃত্তিমূলক নির্দেশনার (Functions of Vocational Guidance at Different Stages of Education) মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ধীরে ধীরে ভবিষ্যৎ জীবনের উপযোগী করে করে তোলা সম্ভব করা হয়।

তথ্যসূত্র (Reference)

  • Basu, N.C. Educational and Vocational Guidance.
  • Chauhan, S.S. – Principles and Techniques of Guidance.
  • Dave Indu – The Basic Essentials of Counseling.
  • Kocher, S.K. – Guidance and Counselling in Secondary School
  • Functions of Vocational Guidance at Different Stages of Education
  • NCERT- Guidance and Counseling.
  • Functions of Vocational Guidance at Different Stages of Education

প্রশ্ন – বৃত্তিমূলক নির্দেশনা কাকে বলে

উত্তর – যে নির্দেশনা শিক্ষার্থীকে তার বৃত্তি জগতের সঙ্গে পরিচিতি করে এবং উপযুক্ত বৃত্তি নির্বাচনে সহায়তা করে তাকে বৃত্তিমূলক নির্দেশনা বলে। অর্থাৎ বৃত্তিমূলক নির্দেশনা হল এমন এক প্রক্রিয়া, যা ব্যক্তির বিকাশগত পর্যায়ের আগ্রহ ও সক্ষমতার উপর ভিত্তি করে তার শিক্ষা কত পেশাগত বৃত্তি নির্বাচনে এবং তার বাস্তবায়নের সহায়তা করে।

আরোও পড়ুন | Related Reading

শিক্ষার বিভিন্ন স্তরে বৃত্তিমূলক নির্দেশনার কার্যাবলী | Functions of Vocational Guidance at Different Stages of Education সম্পূর্ণ পোস্টটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

Mr. Debkumar – Author and Founder of Edutiips.com

Mr. Debkumar – Author and Founder of Edutiips.com

A committed teacher with more than ten years of teaching experience at a general degree college, focused on academic excellence and the overall development of students.

Leave a Comment

close