Share on WhatsApp Share on Telegram

শিক্ষণের প্রকারভেদ | Different Types of Teaching

শিক্ষণ একটি সৃষ্টিশীল কাজ। শিক্ষণের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের শিখন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে থাকে। তাই শিখন প্রক্রিয়াকে কার্যকরী করার জন্য শিক্ষণের প্রকারভেদ (Types of Teaching) বিভিন্ন প্রকৃতির হয়ে থাকে।

যেকোনো শিখনের ক্ষেত্রে শিক্ষণ একটি আবশ্যিক বিষয়। শিখনের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী থাকে আর শিক্ষণ এর ক্ষেত্রে থাকে শিক্ষক মহাশয়। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক মহাশয়ের পারস্পরিক ক্রিয়াপ্রতিক্রিয়ার মধ্য দিয়ে শিখন কার্য সম্পন্ন হয়।

শিক্ষণের প্রকারভেদ | Types of Teaching

শিক্ষণের প্রকৃতির উপর ভিত্তি করে শিক্ষণের প্রকারভেদ বিভিন্ন দিক থেকে পরিলক্ষিত হয়। অর্থাৎ শিক্ষার্থীদের শিখনের ক্ষেত্রে কোন ধরনের শিক্ষণ কৌশল অবলম্বন করতে হবে তার উপর ভিত্তি করে শিক্ষণের প্রকারভেদ বহুমুখী, সেগুলি হল নিম্নলিখিত –

1. অনুশিক্ষণ (Micro Teaching)

আধুনিক শিক্ষা ক্ষেত্রে অনুশিক্ষণ একটি অন্যতম শিক্ষণ দক্ষতা। বর্তমানে শ্রেণিকক্ষে অনুশিক্ষণের মাধ্যমে সহজে শিক্ষা প্রদান করা যায়।

১৯৬১ সালের স্টান্ডফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক Allen সর্বপ্রথম শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষাদানের জন্য অনুশিক্ষণের কথা বলেছেন।

অনুশিক্ষণ হল একটি ক্ষুদ্র শ্রেণি শিক্ষণ। অর্থাৎ যে শিক্ষণে অল্প সংখ্যক শিক্ষার্থীরা থাকে তাকে অনুশিক্ষণ বলে। অনুশিক্ষণে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা অনেক কম যেমন ৫ থেকে ১০ জন হয়ে থাকে এবং সময়ও কম লাগে।

অনুশিক্ষণে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এই অনুশিক্ষণ প্রক্রিয়া একটি শিশু কেন্দ্রিক প্রক্রিয়া হিসেবে পরিগণিত হয়।

2. ভূমিকায়ন শিক্ষণ (Simulated Teaching)

Simulation বা ভূমিকায়ন হল বাস্তব বা আসল অবস্থার পুরোপুরি প্রতিরূপ বা নকল। অর্থাৎ কোন কোন সময়ে আমরা বাস্তব পরিস্থিতি তৈরি করতে পারি না এবং সেটা বাস্তবেও সম্ভব নয়। তখন আমরা বিভিন্ন বাস্তব অবস্থার প্রতিরূপ বা নকল ব্যবহার করে থাকি।

যেমন – Mock Test বা Mock Interview প্রভৃতি.

শিক্ষা ক্ষেত্রে ভূমিকায়ন শিক্ষণ সব থেকে বেশি ব্যবহৃত হয়। বহু প্রাচীনকাল থেকে শিক্ষা ক্ষেত্রে এই পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দেওয়া হয়ে থাকে। তাছাড়া প্রাণীজগতেও এই পদ্ধতির ব্যবহার পরিলক্ষিত হয়।

ভুমিকায়ণের সংজ্ঞায় R. Wynn (1964) বলেছেন – ভূমিকায়ন হল বাস্তব পরিস্থিতির ওই অবস্থার মত উপস্থাপনা।

আবার W. R. Fritz (1965) বলেছেন – ভূমিকায়ন হল ভৌত অবস্থা বা গাণিতিক ব্যবস্থার প্রতিনিধিত্বের গতিময় প্রয়োগ।

তাই ভূমিকায়ন শিক্ষণ হল একটি বিশেষ ধরনের শিখন কৌশল যেখানে শিক্ষকগণ কৃত্রিম অভিনয়ের মাধ্যমে বা শিক্ষার্থীদের সামনে বাস্তব বিষয়কে বোঝানোর জন্য কৃত্রিমভাবে বা নকল করে সেই বিষয়টি উপস্থাপন করেন।

ভূমি গান শিখনের উদ্দেশ্য হল – বাস্তব শ্রেণী কক্ষে পাঠদানের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষতা সম্পন্ন যোগ্য শিক্ষক তৈরি করা।

তাছাড়া শিক্ষার্থীদের বাস্তব অবস্থা বোঝানোর জন্য যে কৃত্রিম পরিবেশ তৈরি করা হয় সেখান থেকে শিক্ষার্থীরা সহজে জ্ঞান লাভ করে থাকে।

3. বৃহৎ দলগত এবং ক্ষুদ্র দলগত শিক্ষণ

যখন একসঙ্গে বহু সংখ্যক শিক্ষার্থীদের শিক্ষণ শিখন এ অংশগ্রহণ করানোর মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন করানো হয়ে থাকে তখন তাকে বৃহৎ দলগত শিক্ষণ বলে।

বৃহৎ দলগত শিক্ষনের সুবিধা হল – এখানে একসঙ্গে অনেক শিক্ষার্থীদের সহজে পাঠদান বা শিক্ষাদান করা সহজ হয়। তবে অনেক সময় বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থীদের এই পদ্ধতিতে শিক্ষাদান সম্ভব হয় না।

আবার ক্ষুদ্র দলগত শিক্ষণ হল এমন ব্যবস্থা যেখানে ছোট ছোট দলে ভাগ করে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাদান করা হয়ে থাকে।

এই পদ্ধতির সুবিধা হল – সময় কম লাগে, পরিশ্রম কম লাগে এবং সহজে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাদান করা সম্ভব হয়।

তাছাড়া এই পদ্ধতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দলগতভাবে কাজ করার জন্য উৎসাহী হয়। ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে একে অপরের সহযোগিতা মূলক শিক্ষণ সম্পন্ন করা সম্ভব করা হয়।

4. সমন্বিত শিক্ষণ (Integrated learning)

সমন্বিত শিক্ষণ একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষণ দক্ষতা। এই শিখন পদ্ধতিতে সম্পূর্ণ আলাদাভাবে শিক্ষণ প্রক্রিয়াকে উপস্থাপন করা হয়।

সমন্বিত শিক্ষণের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে অন্তর্গত, সেগুলি হল –

i) বিচ্ছিন্ন ধারণা গঠনের পরিবর্তে কোন বিষয়ের পারস্পরিক সম্পর্কে ধারণা গঠন,

ii) গতানুগতিক শিক্ষা পদ্ধতির পরিবর্তে বৈচিত্র্যপূর্ণ শিক্ষা পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়।

iii) শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিমুর্ত ধারণার পরিবর্তে বাস্তব জীবনের উপযোগী বিষয়বস্তু নির্ধারণ।

তাই সমন্বিত শিক্ষণ পদ্ধতির মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয়ের মধ্যে আন্ত সম্পর্ক নির্ধারণের ফলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা লাভ বা জ্ঞান লাভ সহজসাধ্য হয়।

5. অনুকৃতি পাঠ (Micro Lesson)

অনুকৃতি পাঠ বা Micro Lesson শিক্ষক শিক্ষণের ক্ষেত্রে অধিক ব্যবহৃত হয়। এই অনুকৃতি পাঠ অনুশিক্ষণের একটি বিশেষ প্রক্রিয়া। অর্থাৎ এটি সম্পূর্ণ শিখনের সব থেকে ছোট বিষয়।

অর্থাৎ শিক্ষাদান কালে কোনো পূর্ণাঙ্গ পাঠের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশ শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন করা হয় তখন সেটিকে অনুকৃতি পাঠ বলে।

অনুকৃতি পাঠের উদ্দেশ্য হল শিক্ষার্থীদের বিশেষ কোনো দক্ষতা বা পটুত্ব অর্জনের সহায়তা করা।

অনুকৃত পাঠের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বল্প সময়ের মধ্যে কোন একটি পাঠের শিক্ষাদান করা হয় বা শিক্ষণ সংক্রান্ত কোনো বিশেষ দক্ষতা অর্জনের সাহায্য করা হয়।

অনকৃত পাঠদানের দক্ষতার মধ্যে অন্যতম দক্ষতা গুলি হল –

i) পাঠ উপস্থাপনের দক্ষতা

ii) প্রশ্ন করনের দক্ষতা

iii) ব্যাখ্যাকরন দক্ষতা

iv) শিক্ষণ সহায়ক উপকরণ ব্যবহারের দক্ষতা

v) পাঠ সমাপ্তি করনের দক্ষতা প্রভৃতি

আরোও পোস্ট পড়ুন – Click Here Now

উপসংহার (Conclusion)

সর্বোপরি বলা যায়, কার্যকরী শিক্ষণের ক্ষেত্রে উপরে উল্লেখিত শিক্ষণের প্রকারভেদ গুলি বিভিন্ন পরিস্থিতিতে বা বিভিন্ন শিখন উদ্দেশ্যকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে। অর্থাৎ শ্রেণিকক্ষের আকৃতি ও প্রকৃতি অনুযায়ী বিভিন্ন শিক্ষণ কৌশল ব্যবহার করা হয় এক্ষেত্রে শিক্ষকের দক্ষতা ও শিক্ষণ কৌশল নির্বাচনের দক্ষতা বিশেষভাবে আবশ্যিক।

তথ্যসূত্র (References)

  • Aggarwal, I. E.: Essentials of Educational Technology: Teaching Learning, Vikash Publishing House Pvt. Ltd. 2001, New Delhi.
  • Bhatt
  • Bhatt and Sharma S. R.: Educational Technology, Kanika Publishing House, New Delhi.
  • Chauhan, S. S.: Innovations in Teaching Learning Process, Vikash Publication, 1990, New Delhi.
  • Hornby, A.S. 1995. Oxford Advanced Learner Dictionary. New York: Oxford University Press
  • Hughes, R. (2002). Teaching and researching speaking. Edinburgh: Pearson Education.
  • Ravi, S. Samuel, A Comprehensive Study of Education, Fourth Printing-May 2016, Delhi – 110092, ISBN – 978-81-203-4182-1,
  • Different Types of Teaching
  • Internet sources

প্রশ্ন – শিক্ষণ কি ও এর প্রকারভেদ?

উত্তর – শিক্ষণ হল একটি শিল্পকলা। যার লক্ষ্য হল শিক্ষার্থীদের জ্ঞানের বিকাশ সাধন করা। অর্থাৎ শিক্ষণ হলো এক ধরনের আন্তব্যক্তিক প্রভাব, যেটি শিক্ষার্থীদের আচরণের পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম হয়।
শিক্ষনের বিভিন্ন প্রকারভেদ বর্তমান। যথা – অনুশিক্ষণ, অনুকৃতি পাঠ, সমন্বিত শিক্ষণ, ভূমিকায়ন শিক্ষণ প্রভৃতি।

প্রশ্ন – শিক্ষণ কত প্রকার?

উত্তর – শিক্ষণ বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে, যথা – অনুশিক্ষণ, ভূমিকায়ন শিক্ষণ, অনুকৃতি পাঠ প্রভৃতি।

আরোও পড়ুন

শিক্ষণের প্রকারভেদ | Different Types of Teaching সম্পূর্ণ পোস্টটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

Mr. Debkumar – Author and Founder of Edutiips.com

Mr. Debkumar – Author and Founder of Edutiips.com

একজন অভিজ্ঞ শিক্ষক, যিনি ডিগ্রি কলেজে দশ বছরেরও বেশি সময় ধরে পাঠদান করছেন এবং শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সাফল্য ও সার্বিক বিকাশে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি শিক্ষামূলক ডিজিটাল রিসোর্স ও প্রকাশনা তৈরিতেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত। Edubitan -এর অনলাইন স্টোর store.edubitan.com এর মাধ্যমে তিনি শিক্ষাবিষয়ক মানসম্পন্ন PDF বই (Educational eBooks) ও স্টাডি ম্যাটেরিয়াল প্রকাশ করেন, যা শিক্ষার্থী, গবেষক ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার্থীদের সহায়তা করে।

An experienced educator with more than ten years of teaching in a general degree college, dedicated to fostering academic excellence and holistic student growth. He is also the creator of structured digital learning resources and educational publications. Through Edubitan and its online store store.edubitan.com, he publishes and distributes curated PDF books (Educational eBooks) and study materials in education to support students, researchers, and competitive exam aspirants.

3 thoughts on “শিক্ষণের প্রকারভেদ | Different Types of Teaching”

Leave a Comment

close
✅ Copied with source!