Share on WhatsApp Share on Telegram

যোগাযোগ কি | যোগাযোগ কত প্রকার ও কি কি | Types of Communication

যোগাযোগ হল একে অপরের সঙ্গে ভাব মতবাদ বা তথ্যের আদান প্রদান। প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী যোগাযোগ বিভিন্ন প্রকারের (Types of Communication) হয়ে থাকে, যেগুলি ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির যোগাযোগকে বিশেষ প্রভাবিত করে।

প্রত্যেক মানুষেরই কিছু চিন্তা, ধারণা ও অনুভূতি থাকে, যা সে অন্যের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চায়। তাই পারস্পরিক বোঝাপড়া তৈরি করতে তথ্য, ধারণা, মতামত বা আবেগের বিনিময় হল যোগাযোগ। এর জন্য সে বিশেষ কতকগুলি অঙ্গভঙ্গি ভাষা বা অন্য কোনো উপায় অবলম্বন করে।

যোগাযোগ কি

ইংরাজী ‘Communication’ (যোগাযোগ) শব্দটি ল্যাটিন শব্দ ‘Communicare’ থেকে এসেছে। যার অর্থ হল – ‘to share’ অর্থাৎ ভাগ করা। অর্থাৎ যোগাযোগ হল একে অপরের মধ্যে বা দুই বা ততোধিক ব্যক্তির মধ্যে তথ্য বা ভাবের আদান-প্রদান করা।

যোগাযোগের বিভিন্ন সংজ্ঞা বর্তমান, সেগুলি হল –

1. যোগাযোগের সংজ্ঞায় ডিউই (Dewey) – এর মতে, “Communication is a process of sharing experience till it becomes a common possession.” অর্থাৎ যোগাযোগ হল পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের প্রক্রিয়া, যতক্ষণ না উভয়ের অভিজ্ঞতা সমান হয়।

2. অ্যারিস্টটলের (Aristotle) বলেছেন – “Communication is a means of persuasion to influence the other so that the desire effect is achieved.” অর্থাৎ যোগাযোগ হল অন্যকে প্রভাবিত করার একটি মাধ্যম, যাতে ইচ্ছার প্রভাব অর্জন করা হয়।

তাই যোগাযোগ হল একে অপরের সঙ্গে ভাব মতবাদ বা তথ্যের আদান প্রদান। প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী যোগাযোগ বিভিন্ন প্রকারের (Types of Communication) হয়ে থাকে, যেগুলি ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির যোগাযোগকে বিশেষ প্রভাবিত করে।

যেমন – শ্রেণিকক্ষে যোগাযোগ স্থাপিত হয় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে।

যোগাযোগের প্রকারভেদ বা শ্রেণিবিভাগ (Types of Communication)

প্রকৃতি, বৈশিষ্ট্য ও যোগাযোগের ধরন অনুযায়ী যোগাযোগকে যে সমস্ত দিক থেকে শ্রেণীবিভাগ (Types of Communication) করা হয়ে থাকে, সেগুলি হল –

i) বাচনিক বা ভাষাগত যোগাযোগ (Verbal Communication)

  • আন্তরব্যক্তিগত যোগাযোগ (Interpersonal Communication)
  • অন্তঃব্যক্তিগত যোগাযোগ (Intrapersonal Communication)
  • ক্ষুদ্র দলীয় যোগাযোগ (Small Group Communication)
  • পাবলিক যোগাযোগ (Public Communication)

ii) অবাচনিক বা ভাষাবিহীন যোগাযোগ (Non-Verbal Communication)

iii) লিখিত যোগাযোগ (Written Communication)

A. বাচনিক বা ভাষাগত যোগাযোগ (Verbal Communication)

বাচনিক যোগাযোগ হল তথ্য আদান-প্রদানের জন্য ভাষাগত মাধ্যম ব্যবহার করা। অর্থাৎ বাচনিক যোগাযোগের মূল উপাদান হল ভাষা। যেখানে প্রেরক ও গ্রাহকের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান হয়ে থাকে ভাষার মধ্য দিয়ে। তাই বাচনিক যোগাযোগ হল অন্য ব্যক্তিদের কাছে তথ্য প্রেরণের জন্য বক্তৃতা ব্যবহার করার প্রক্রিয়া।

যেমন – কথোপকথন (Conversations), বক্তৃতা (Speeches) এবং আলোচনা (Discussions) প্রভৃতি।

বাচনিক যোগাযোগের কিছু মূল বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়, সেগুলি হল –

  • স্পষ্টতা (Clarity),
  • মুখোমুখি মিথস্ক্রিয়া (Face-To-Face Interaction),
  • প্রতিক্রিয়া (Feedback),
  • সংক্ষিপ্ততা (Conciseness),
  • স্বচ্ছতা এবং নির্ভুলতা (Clarity and precision)

বাচনিক যোগাযোগের প্রকারভেদ (Types of Verbal Communication)

উদ্দেশ্যের উপর নির্ভর করে বাচনিক যোগাযোগ বিভিন্ন প্রকার। সেগুলি হল –

1. আন্তরব্যক্তিগত যোগাযোগ (Interpersonal Communication) – যখন একজন প্রেরক ও একজন গ্রাহক থাকেন তখন তাকে আন্তরব্যক্তিগত যোগাযোগ বলে। এই ধরনের যোগাযোগকে অনেক সময় One to one communication ও বলা হয়।
যেমন –  মুখোমুখি (Face-to-face) কথাবার্তা, সাক্ষাৎকার (Interview) প্রভৃতি।

2. অন্তঃব্যক্তিগত যোগাযোগ (Intrapersonal Communication) – এটি এমন যোগাযোগ যা অভ্যন্তরীণভাবে (Internally) ঘটে। যখন ব্যক্তি নিজের সঙ্গে নিজে যোগাযোগ করেন, তখন তাকে অন্তঃব্যক্তিগত যোগাযোগ বলে।
যেমন – আত্মচিন্তন, ডায়েরি লেখা ইত্যাদি।

3. ক্ষুদ্র দলীয় যোগাযোগ (Small Group Communication) – এই ধরনের যোগাযোগ সাধারণত ছোটো দল বা দুইয়ের অধিক ব্যক্তি এই ধরনের যোগাযোগ করে থাকেন। নিয়ন্ত্রিত ও অনিয়ন্ত্রিতভাবে এই ধরনের যোগাযোগ প্রক্রিয়া স্থাপিত হতে পারে।
যেমন – শ্রেণিকক্ষের যোগাযোগ, বাস বা ট্রেনযাত্রীদের যোগাযোগ প্রভৃতি।

4. পাবলিক যোগাযোগ (Public Communication) – এই ধরনের যোগাযোগের ক্ষেত্রে দলে সদস্য সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি হয়ে থাকে। এই যোগাযোগের ক্ষেত্রে তথ্য সঞ্চালন একমুখী বা এককেন্দ্রিক হয়। সাধারণত একজন ব্যক্তি দ্বারা অনেক শ্রোতাদেরকে সম্বোধন বা তথ্য সরবরাহ করা হয়।
যেমন – জনসভায় বক্তৃতা প্রদান, নির্বাচনী প্রচারের সময় পাবলিক বক্তৃতা, টিভি এবং রেডিওর মাধ্যমে কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ।

Types of Verbal Communication
Types of Verbal Communication

B. অবাচনিক যোগাযোগ (Non-Verbal Communication)

অবাচনিক যোগাযোগ হল কোনো ভাষা বা শব্দ ব্যবহার না করে প্রেরক ও গ্রাহকের মধ্যে সুষ্ঠুভাবে যোগাযোগ সম্পন্ন করা। অবাচনিক বা ভাষাবিহীন যোগাযোগের মূল উপাদান হল – মুখের অভিব্যক্তি (Facial Expressions) অঙ্গভঙ্গি (Gestures), অঙ্গবিন্যাস (Posture), চোখের যোগাযোগ (Eye Contact) ইত্যাদি। অবাচনিক যোগাযোগের অপর নাম হল ভাষাবিহীন যোগাযোগ।

অর্থাৎ ব্যক্তি যখন যোগাযোগের ক্ষেত্রে বা তথ্য আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে কোন ভাষার ব্যবহার না করে অঙ্গভঙ্গি, হাত নাড়া, চোখের যোগাযোগ প্রভৃতির মাধ্যমে যোগাযোগ সম্পন্ন করে থাকে, তখন তাকে অবাচনিক যোগাযোগ বা ভাষাবিহীন যোগাযোগ বলা হয়ে থাকে।

যেমন – অবাচনিক যোগাযোগের উদাহরণ হল – হাসি, কান্না, হাত নাড়া, বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি করা, চোখের যোগাযোগ প্রভৃতি।

অবাচনিক যোগাযোগের বৈশিষ্ট্য (Characteristics of Non-Verbal Communication)

অবাচনিক যোগাযোগ বলতে কথ্য বা লিখিত শব্দ ব্যতীত অন্যান্য মাধ্যমে তথ্য এবং বার্তা বিনিময়কে বোঝায়। এই যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যগুলি হল –

  • ক্রমাগত এবং অনিবার্য (Continuous and Inevitable)
  • অস্পষ্ট এবং ব্যাখ্যার বিষয় (Ambiguous and Subject to Interpretation)
  • অঙ্গভঙ্গিমূলক (Gestural)
  • চোখের যোগাযোগ (Eye Contact)
  • স্পর্শমূলক (Touchable) প্রভৃতি।

C. লিখিত যোগাযোগ (Written Communication)

যখন গ্রাহক ও প্রেরকের মধ্যে লিখিত মাধ্যম ব্যবহৃত হয়ে বা লিখিত মাধ্যমের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থা সুসম্পন্ন হয়ে থাকে তখন তাকে লিখিত যোগাযোগ বলে। এই যোগাযোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা। কারণ এই যোগাযোগের মাধ্যমে সমস্ত বিষয়বস্তু বা তথ্য আদান প্রদান লিখিত মাধ্যমে সম্পন্ন হয়ে থাকে।

যেমন – লিখিত যোগাযোগের অন্যতম উদাহরণ হল – চিঠিপত্র আদান-প্রদান।

আরোও পোস্ট পড়ুন – Click Here Now

উপসংহার (Conclusion)

সর্বোপরি বলা যায়, যোগাযোগ হল দ্বিমুখী সংযোগ ব্যবস্থা। যোগাযোগের ধরনের উপর নির্ভর করে যোগাযোগের বিভিন্ন প্রকার পরিলক্ষিত হয়ে থাকে। অর্থাৎ মানুষের প্রয়োজনের উপর ভিত্তি করে যোগাযোগ বিভিন্ন প্রকৃতির বা প্রকারের হয়ে থাকে। যোগাযোগ ব্যবস্থা যে প্রকারের হোক না কেন তা প্রেরক ও গ্রাহকের সন্তুষ্টি আনয়নের ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

তথ্যসূত্র (References)

  • Aggarwal, I. E.: Essentials of Educational Technology: Teaching Learning, Vikash Publishing House Pvt. Ltd. 2001, New Delhi.
  • Bhatt and Sharma S. R.: Educational Technology, Kanika Publishing House, New Delhi.
  • Chauhan, S. S.: Innovations in Teaching Learning Process, Vikash Publication, 1990, New Delhi.
  • Hornby, A.S. 1995. Oxford Advanced Learner Dictionary. New York: Oxford University Press
  • Hughes, R. (2002). Teaching and researching speaking. Edinburgh: Pearson Education.
  • Ravi, S. Samuel, A Comprehensive Study of Education, Fourth Printing-May 2016, Delhi – 110092, ISBN – 978-81-203-4182-1,
  • Internet sources

প্রশ্ন – বাচনিক যোগাযোগ কি?

উত্তর – যখন দুজন ব্যক্তির মধ্যে ভাবের আদান-প্রদান বা তথ্যের আদান-প্রদান ভাষার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়ে থাকে তখন তাকে বাচনিক যোগাযোগ বলে। এই বাচনিক যোগাযোগের মূল উপাদান হল ভাষা (Language). ভাষা ছাড়া বাচনিক যোগাযোগ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন কখনই সম্ভবপর নয়।

প্রশ্ন – ভাষিক যোগাযোগ বা বাচনিক যোগাযোগ কত প্রকার?

উত্তর – ভাষিক যোগাযোগ বা ভাষাগত যোগাযোগ বা বাচনিক যোগাযোগ চার প্রকারের হয়ে থাকে। সেগুলি হল –
1. আন্তরব্যক্তিগত যোগাযোগ (Interpersonal Communication)
2. অন্তঃব্যক্তিগত যোগাযোগ (Intrapersonal Communication)
3. ক্ষুদ্র দলীয় যোগাযোগ (Small Group Communication)
4. পাবলিক যোগাযোগ (Public Communication)

প্রশ্ন – অবাচনিক যোগাযোগ মাধ্যম কি?

উত্তর – অবাচনিক যোগাযোগে বার্তা আদান প্রদানের ক্ষেত্রে কোন ভাষা বা শব্দের ব্যবহার হয় না। এই যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হল অঙ্গভঙ্গি, শারীরিক ভাষা, চোখের ভাষা (Eye Contact) প্রভৃতি।

প্রশ্ন – মৌখিক ও অ মৌখিক যোগাযোগের মধ্যে পার্থক্য কি?

উত্তর – মৌখিক ও অ-মৌখিক যোগাযোগের মধ্যে পার্থক্য হল –
1. মৌখিক যোগাযোগ ভাষা নির্ভর বা বাচনিক প্রকৃতির। আর অপরদিকে অ-মৌখিক যোগাযোগ হল ভাষাবিহীন।
2. মৌখিক যোগাযোগের মূল উপাদান হল ভাষা। আর অ-মৌখিক যোগাযোগের মূল উপাদান হল অঙ্গভঙ্গি, চোখের যোগাযোগ, মুখাভিনয় প্রভৃতি।

প্রশ্ন – দ্বিমুখী যোগাযোগ ব্যবস্থা বলতে কি বুঝ?

উত্তর – যখন প্রেরক ও গ্রাহকের মধ্যে ভাবের আদান প্রদান বা তথ্যের আদান-প্রদান হয়ে থাকে তখন তাকে দ্বিমুখী যোগাযোগ বলে। এই যোগাযোগে প্রতিক্রিয়া (Feedback) পাওয়া সম্ভব হয়।

প্রশ্ন – যোগাযোগের বিভিন্ন ধরন কি কি? (How many types of communication?)

উত্তর – যোগাযোগের বিভিন্ন ধরনগুলি হল –
1. বাচনিক যোগাযোগ,
2. অবাচনিক যোগাযোগ,
3. লিখিত যোগাযোগ,
4. একমুখী যোগাযোগ,
5. দ্বিমুখী যোগাযোগ প্রভৃতি।

প্রশ্ন – অবাচনিক যোগাযোগ কি?

উত্তর – অবাচনিক যোগাযোগ হল কোনো সংকেত বা বার্তা গ্রাহকের কাছে পাঠানোর জন্য ভাষা ব্যবহার না করে অঙ্গভঙ্গি, চোখের যোগাযোগ, শরীরের নাড়াচড়া প্রভৃতির মাধ্যমে যোগাযোগ স্থাপন করা। এই যোগাযোগের প্রধান উপাদান হল – চোখের যোগাযোগ, অঙ্গভঙ্গি প্রভৃতি।

আরোও পড়ুন

Mr. Debkumar – Author and Founder of Edutiips.com

Mr. Debkumar – Author and Founder of Edutiips.com

একজন অভিজ্ঞ শিক্ষক, যিনি ডিগ্রি কলেজে দশ বছরেরও বেশি সময় ধরে পাঠদান করছেন এবং শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সাফল্য ও সার্বিক বিকাশে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি শিক্ষামূলক ডিজিটাল রিসোর্স ও প্রকাশনা তৈরিতেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত। Edubitan -এর অনলাইন স্টোর store.edubitan.com এর মাধ্যমে তিনি শিক্ষাবিষয়ক মানসম্পন্ন PDF বই (Educational eBooks) ও স্টাডি ম্যাটেরিয়াল প্রকাশ করেন, যা শিক্ষার্থী, গবেষক ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার্থীদের সহায়তা করে।

An experienced educator with more than ten years of teaching in a general degree college, dedicated to fostering academic excellence and holistic student growth. He is also the creator of structured digital learning resources and educational publications. Through Edubitan and its online store store.edubitan.com, he publishes and distributes curated PDF books (Educational eBooks) and study materials in education to support students, researchers, and competitive exam aspirants.

2 thoughts on “যোগাযোগ কি | যোগাযোগ কত প্রকার ও কি কি | Types of Communication”

  1. I ‘d mention that most of us visitors are endowed to exist in a fabulous place with very many wonderful individuals with very helpful things.

    Reply

Leave a Comment

close
✅ Copied with source!