Share on WhatsApp Share on Telegram

প্রকল্প পদ্ধতি কাকে বলে | এই পদ্ধতির বৈশিষ্ট্য | Project Method

আধুনিক শিক্ষা ক্ষেত্রে বিভিন্ন শিক্ষা পদ্ধতির উদ্ভব হয়েছে। এই সমস্ত পদ্ধতির মধ্যে সবথেকে উল্লেখযোগ্য এবং গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি হল প্রকল্প পদ্ধতি (Project Method)।

শিক্ষা ক্ষেত্রে শিশুরা বিভিন্নভাবে শিক্ষা গ্রহণ করে থাকে। এটি তাত্ত্বিক এবং ব্যবহারিক উভয় প্রকারের হয়ে থাকে। আধুনিককালে ব্যবহারিক শিক্ষার গুরুত্ব আরোপ করার জন্য প্রকল্প পদ্ধতি বিশেষ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। এখানে প্রকল্প পদ্ধতি কাকে বলে এবং প্রকল্প পদ্ধতির বৈশিষ্ট্য গুলি কি কি তা বিস্তারিত আলোচনা করা হল।

প্রকল্প পদ্ধতি কাকে বলে | Definition of Project Method

ব্যবহারিক শিক্ষাকে বা হাতে-কলমে কাজের মাধ্যমে শিক্ষার ক্ষেত্রে শিশুদের সক্রিয়তা ভিত্তিক নীতিকে বাস্তবে রূপদান দেয়ার জন্য যে শিক্ষা পদ্ধতির উদ্ভব হয়েছে, তাকে প্রকল্প পদ্ধতি বলে।

বিশিষ্ট প্রয়োগবাদী দার্শনিক জন ডিউই শিক্ষা পদ্ধতির ক্ষেত্রে প্রকল্প পদ্ধতির কথা উল্লেখ করেছেন। পরবর্তীকালে জন ডিউই এর শিষ্য কিলপ্যাট্রিক প্রকল্প পদ্ধতি বা প্রজেক্ট মেথডের পরিপূর্ণতা দান করেন।

কিলপ্যাট্রিকের মতে – প্রজেক্ট বা প্রকল্প বলতে কোনো উদ্দেশ্য যুক্ত কাজ, যা একটি স্বাভাবিক পরিবেশে আন্তরিকতার সঙ্গে সম্পন্ন হয়ে থাকে।

তাই আধুনিক শিশু কেন্দ্রিক শিক্ষার জন্য সৃষ্টিকারী একটি আধুনিক শিক্ষা পদ্ধতি হল প্রকল্প পদ্ধতি বা প্রজেক্ট মেথড।

প্রকল্প পদ্ধতির বৈশিষ্ট্য | Characteristics of Project Method

প্রকল্প পদ্ধতির বৈশিষ্ট্য বিভিন্ন দিক থেকে পরিলক্ষিত হয়। যেগুলি বিভিন্ন শিক্ষা পদ্ধতির থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। প্রকল্প পদ্ধতির বা প্রজেক্ট মেথডের বৈশিষ্ট্য গুলি হল নিম্নলিখিত –

1. উদ্দেশ্যভিত্তিক

প্রকল্প পদ্ধতি হল একটি উদ্দেশ্যমূলক কাজ। অর্থাৎ এটি একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য কে কেন্দ্র করে রচিত হয়। যেখানে শিক্ষার্থীরা একটি উদ্দেশ্যমূলক কাজকে সফল করার জন্য স্বতঃস্ফূর্তভাবে এবং সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে থাকে।

2. সক্রিয়তা মূলক

শিক্ষা পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিভিন্ন কাজ বা বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করে থাকে। তাই এই শিক্ষা পদ্ধতি সম্পূর্ণভাবে সক্রিয়তামূলক। শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া প্রজেক্ট পদ্ধতির উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ ব্যর্থ হবে।

3. কর্মকেন্দ্রিক

প্রকল্প পদ্ধতি কর্মকেন্দ্রিক বা কর্মভিত্তিক নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত। কারণ এখানে হাতে কলমে কাজ করার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা যে-কোনো সমস্যার সমাধান করে থাকে। অর্থাৎ এই শিক্ষা পদ্ধতিতে বিভিন্ন সমস্যা সমাধান মূলক কাজকে কেন্দ্র করে কোন প্রকল্প সংগঠিত হয়ে থাকে।

4. বাস্তবমুখী

প্রকল্প পদ্ধতি সম্পূর্ণভাবে বাস্তবমুখী শিক্ষা পদ্ধতি। যেখানে শিক্ষার্থীরা বাস্তব জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে অগ্রসর হয়। যা তাদের নিজেদের জীবন গঠনের বিশেষভাবে সহায়ক।

5. সহযোগিতা ভিত্তিক

প্রজেক্ট পদ্ধতির বৈশিষ্ট্য হল এটি সহযোগিতা ভিত্তিক শিক্ষা পদ্ধতি। অর্থাৎ এখানে শিক্ষার্থীরা কোনো বিষয়ের প্রতি বা কোনো সমস্যা সমাধানের জন্য দলগত ভাবে কার্য সম্পাদন করে থাকে। ফলে দলের সদস্যদের মধ্যে একে অপরের প্রতি সহযোগিতা করার মনোভাব পরিলক্ষিত হয়।

6. সামাজিক প্রকৃতির

প্রকল্প পদ্ধতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সামাজিক বিভিন্ন গুণাবলীর বিকাশ সাধন সম্ভবপর হয়। তাই এই পদ্ধতি সম্পূর্ণভাবে সামাজিক প্রকৃতির হয়ে থাকে। যেখানে শিক্ষার্থীদের দলগঠনের মনোভাব সৃষ্টি হয়, সহযোগিতার মনোভাব সৃষ্টি হয় এবং সর্বোপরি সামাজিক বিকাশ সাধন হয়ে থাকে।

7. মনোবিজ্ঞান সম্মত

প্রকল্প পদ্ধতি আধুনিক এবং মনোবিজ্ঞান সম্মত শিক্ষা পদ্ধতি। অর্থাৎ এখানে মনোবিজ্ঞানের নীতি অনুসরণ করা হয়ে থাকে। তাই শিক্ষার্থীরা বাস্তবসম্মত ভাবে নিজেদের আগ্রহ ও চাহিদা অনুসারে বাস্তব সমস্যার সমাধান করার মধ্য দিয়ে জ্ঞান অর্জন করে বা শিক্ষা গ্রহণ করে থাকে।

8. স্বাধীনতা

প্রকল্প পদ্ধতির বৈশিষ্ট্য গুলির মধ্যে অন্যতম হল স্বাধীনতা। অর্থাৎ এখানে শিশু স্বাধীনভাবে কোনো কাজ সম্পাদনের সুযোগ পায়। তাই প্রকল্প পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীরা কোনো কর্ম নির্বাচন থেকে শুরু করে কর্মসম্পাদন পর্যন্ত সবকিছু স্বাধীনভাবে করে থাকে।

9. সমস্যামূলক

প্রকল্প পদ্ধতি শিক্ষার কোনো না কোনো সমস্যার সমাধানের সঙ্গে যুক্ত। অর্থাৎ এটি কোনো একটি সমস্যা মূলক পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে রচিত হয়।

তাই প্রজেক্ট মেথড বা প্রকল্প পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত সমস্যার ও তার সমাধান কে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। যেটি শিশুকে বাস্তবসম্মত জ্ঞান অর্জন করতে এবং পরিবর্তনশীল পরিবেশের সঙ্গে অভিযোজন করতে সহায়তা করে।

10. শিশুকেন্দ্রীকতা

প্রকল্প পদ্ধতি শিশুকেন্দ্রিক শিক্ষাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। অর্থাৎ এখানে শিশুর চাহিদা, আগ্রহ, , প্রবণতা প্রভৃতির উপর ভিত্তি করে রচিত। এখানে শিশুর আগ্রহের মাধ্যমে কোনো সমস্যামূলক পরিস্থিতি নির্বাচন এবং সেটিকে সমাধানের প্রচেষ্টা করা। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা সম্পূর্ণ স্বাধীনতা পেয়ে থাকে।

উপসংহার (Conclusion)

সর্বোপরি বলা যায়, মনোবিজ্ঞান সম্মত প্রকল্প পদ্ধতি (Project Method) আধুনিক শিক্ষা ক্ষেত্রে শিশুর শিক্ষাকে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। অর্থাৎ এটি শীর্ষেন্দু শিক্ষার প্রচেষ্টাকে সার্থক করে তোলে। তাই বাস্তব কেন্দ্রিক বা বাস্তব মুখী এবং ব্যবহারিক শিক্ষা পদ্ধতি হিসেবে প্রকল্প পদ্ধতি বা প্রজেক্ট মেথড আধুনিক শিক্ষা ক্ষেত্রে একটি অন্যতম শিক্ষা পদ্ধতি হিসেবে পরিগণিত হয়।

তথ্যসূত্র (References)

  • Ravi, S. Samuel, A Comprehensive Study of Education, Fourth Printing-May 2016, Delhi – 110092, ISBN – 978-81-203-4182-1
  • Education in India-Past-Present-Future, Vol. I and II, J. P. Banerjee
  • Landmarks in the History of Modern Indian Education, J. C. Aggarwal
  • Internet Sources

প্রশ্ন – প্রকল্প পদ্ধতির প্রবক্তা কে

উত্তর – বিশিষ্ট প্রয়োগবাদী দার্শনিক জন ডিউই শিক্ষা পদ্ধতির ক্ষেত্রে প্রকল্প পদ্ধতির কথা উল্লেখ করেছেন। পরবর্তীকালে জন ডিউই এর শিষ্য কিলপ্যাট্রিক প্রকল্প পদ্ধতি বা প্রজেক্ট মেথডের পরিপূর্ণতা দান করেন।

প্রশ্ন – প্রকল্প পদ্ধতির স্তর গুলি কি কি

উত্তর – প্রকল্প পদ্ধতি স্তর গুলি হল – i) উদ্দেশ্য স্থির করা, ii) পরিকল্পনা করা, iii) কর্ম সম্পাদন করা এবং iv) বিচার বিশ্লেষণ করা।

প্রশ্ন – প্রকল্প পদ্ধতির চারটি স্তর

উত্তর – প্রকল্প পদ্ধতির চারটি স্তর হল – i) উদ্দেশ্য স্থির করা, ii) পরিকল্পনা করা, iii) কর্ম সম্পাদন করা এবং iv) বিচার বিশ্লেষণ করা।

আরোও পড়ুন

Mr. Debkumar – Author and Founder of Edutiips.com

Mr. Debkumar – Author and Founder of Edutiips.com

A committed teacher with more than ten years of teaching experience at a general degree college, focused on academic excellence and the overall development of students.

Leave a Comment

close