বিশ্বায়নের প্রকৃতি আলোচনা করো | Nature of Globalization

বিশ্বায়ন হল আধুনিকতম ধারণা। বিশ্বায়নের মধ্য দিয়ে পৃথিবীর সকল দেশের সকল মানুষের মধ্যে একসঙ্গে যোগসূত্র স্থাপন করা সম্ভব তাই বিশ্বায়নের প্রকৃতি (Nature of Globalization) ব্যাপক এবং বিস্তৃত।

বিশ্বায়নের প্রকৃতি | Nature of Globalization

বিশ্বায়ন হল সারা বিশ্ব জুড়ে মানুষের মধ্যে সামাজিক সম্পর্কগুলির দৃঢ়করন এবং সংযোগ সাধন যার ফলে বহু দূর অবস্থিত কোনো দেশের মানুষরা সহজে অন্য দেশের সঙ্গে যোগসূত্র স্থাপন করতে পারে।

বিশ্বায়নের প্রকৃতি আলোচনা করলে যে সমস্ত দিক পরিস্ফুট হয়, সেগুলি হল নিম্নলিখিত –

i) বিশ্বায়ন হল পারস্পারিক সহযোগিতামূলক। অর্থাৎ এর ফলে সারা বিশ্বের মানুষ পরস্পরের সাথে পরস্পরের সুসম্পর্কের মাধ্যমে সহযোগিতা স্থাপন করে থাকে।

ii) বিশ্বায়ন সামাজিক সম্পর্কগুলির মধ্যে পারস্পরিক নির্ভরশীলতা সম্প্রসারণ করে থাকে। অর্থাৎ বিশ্বায়ন মানুষের সাথে মানুষের পারস্পরিক বন্ধনকে অটুট করে তোলে।

iii) বিশ্বায়নের ফলে মানুষের মধ্যে আঞ্চলিকতা দূরীকরণ করা বা দূরকে কাছে করা সম্ভবপর হয়। তাই বিশ্বায়ন দূরকে নিকট করার একটি বিশেষ দিক।

iv) বিশ্বায়ন আর্থিক দিকের বিকাশ সাধন করে থাকে। তাই বিশ্বায়নের প্রকৃতির মধ্যে অর্থনৈতিক দিক একটি অন্যতম দিক। অর্থাৎ অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে বিশ্বায়ন সংগঠিত হয়ে থাকে। এর ফলে বিভিন্ন দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পায়।

v) সাংস্কৃতিক প্রতিবন্ধকতা দূর করার মাধ্যমে বিশ্বায়ন বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতির মধ্যে একটি যোগসূত্র স্থাপন করতে সহায়তা করে। বিভিন্ন প্রযুক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতিকে বিশ্বায়ন বিশেষভাবে বিশ্বের দরবারে বিভিন্ন মানুষের কাছে উপস্থাপন করে থাকে।

ফলে মানুষ বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের সাথে পরিচয় লাভ করে ও তাদের মধ্যে ভাবের আদান প্রদান করে থাকে। অর্থাৎ বিশ্বায়নের ফলে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঞ্চালন ও সংরক্ষণ হয়ে থাকে।

vi) বিশ্বায়ন বর্তমান সভ্যতা, ধ্যান-ধারণা,, বিভিন্ন নিয়ম নীতি বা রীতিনীতি প্রভৃতিকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করে থাকে।

vii) বিশ্বায়ন একটি বহুমুখী সামাজিক প্রক্রিয়া হিসেবে গণ্য করা হয়। অর্থাৎ বিশ্বায়নের প্রকৃতি হল সামাজিক বহুমুখীনতা। তাই সামাজিক বহুমুখীনতা হিসাবে বিশ্বায়ন সামাজিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী সামাজিক নির্ভরশীলতা সম্প্রসারিত করে থাকে।

উপসংহার (Conclusion)

পরিশেষে বলা যায়, বিশ্বায়ন হল সারা বিশ্বের মানুষের সঙ্গে যোগসূত্র স্থাপন করা। তাই বিশ্বায়নের ফলে মানুষের জীবনযাত্রার আমুল পরিবর্তন সাধন সম্ভবপর হচ্ছে। বিশ্বায়ন একদিকে যেমন মানুষের সাথে মানুষের যোগসূত্র স্থাপনের সম্ভব গড়ে তুলছে, অন্যদিকে তেমনি বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক উন্নতির দিকের পথকেও প্রশস্ত করে তুলছে।

প্রাথমিক গোষ্ঠীর ধারণা, সংজ্ঞা, বৈশিষ্ঠ্য ও শিক্ষাগত তাৎপর্যসামাজিক গোষ্ঠীর ধারণা, সংজ্ঞা ও শ্রেণীবিভাগ
শিশুর সামাজিকীকরণে পরিবারের ভূমিকাশিশুর সামাজিকীকরণে বিদ্যালয়ের ভূমিকা

তথ্যসূত্র (Reference)

  • Brown, F. J. (1954). Educational Sociology. New York: Prentice-Hall.
  • Bhattacharjee, Srinivas. (1996). Philosophical & Sociological Foundation of Education. Herald book service.
  • Das, P. (2007). Sociological Foundation of Education. New Delhi: Authorspress
  • Shukla, S & K Kumar. (1985). Sociological Perspective in Education. New Delhi, Chanakya
    Publications
  • Sodhi, T.S & Suri, Aruna. (1998). Philosophical & Sociological Foundations of Education, H.P Bhargav Book House, Agra,

প্রশ্ন – বিশ্বায়ন বলতে কী বোঝ?

উত্তর – বিশ্বায়ন হল সারা বিশ্বের মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপন বা পারস্পরিক যোগাযোগ স্থাপন করা। এর ফলে বিশ্বের যে কোনো প্রান্তের মানুষ অন্য কোনো প্রান্তে থাকা মানুষের সাথে সহজে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে। তাই বিশ্বাস হলো বিভিন্ন দেশের মানুষ এবং সরকারের সাথে পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে নিজেদের উন্নতি সাধন করা।

আরোও পড়ুন

2 thoughts on “বিশ্বায়নের প্রকৃতি আলোচনা করো | Nature of Globalization”

  1. Your posts always leave me feeling motivated and empowered You have a gift for inspiring others and it’s evident in your writing

    Reply
  2. Whoa! This blog looks exactly like my old one!
    It’s on a entirely different subject but it has pretty much the same layout and
    design. Excellent choice of colors!

    Reply

Leave a Comment

close